Abhishek Banarjee

‘উত্তরপ্রদেশ, বিহারের ভোটার ঢোকাচ্ছে, বস্তাভর্তি ফর্ম-৬ ঢুকছে’, রাজ্যের মুখ‍্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে গিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ অভিষেকের

সাংবাদিক বৈঠকে তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি বাইরের রাজ্যের ভোটারদের পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, বিহার ও উত্তরপ্রদেশের ভোটারদের নাম যুক্ত করতে বস্তাভর্তি ফর্ম-৬ সোমবার সিইও দফতরে জমা দেওয়া হয়েছে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ৩০ মার্চ ২০২৬ ১১:৫০

মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)-এর দফতরে ঢোকার আগেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেছিলেন, 'চুরি ধরা পড়েছে।' আর দফতর থেকে বেরিয়ে তিনি সরাসরি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল-এর অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আনা হোক, তাহলেই পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে।

সোমবার বিকেলে স্ট্র্যান্ড রোডের শিপিং কর্পোরেশন ভবনে অবস্থিত সিইও দফতরে অভিষেকের আগে পৌঁছে যান রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শশী পাঁজা, বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ শান্তনু সেন। কিছুক্ষণ পরে অভিষেক সেখানে পৌঁছে বলেন, 'বড় চুরি ধরা পড়েছে।' পরে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি বাইরের রাজ্যের ভোটারদের পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, বিহার ও উত্তরপ্রদেশের ভোটারদের নাম যুক্ত করতে বস্তাভর্তি ফর্ম-৬ সোমবার সিইও দফতরে জমা দেওয়া হয়েছে।

অভিষেকের অভিযোগ, বিজেপি নেতা মাল্যব-এর নির্দেশে প্রায় ৩০ হাজার ফর্ম-৬ জমা পড়েছে। তিনি বলেন, ‘‘৩০ হাজার ফর্ম-৬ জমা পড়েছে। কমিশনের নিয়ম মেনে ৩০ হাজার ফর্ম-৬ জমা পড়লে কমপক্ষে ৬০০ জনকে সশরীরে উপস্থিত হতে হয়। আমরা ২৪ ঘণ্টার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আনতে বলেছি কমিশনকে। তাহলেই তো সব স্পষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু কমিশন সদুত্তর দিতে পারেনি।’’

ফর্ম-৬ হল ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদনপত্র। সাধারণত প্রথমবার ভোটার হওয়ার আবেদনকারী বা এক কেন্দ্র থেকে অন্য কেন্দ্রে স্থানান্তরিত বাসিন্দারা এই ফর্ম ব্যবহার করেন। বয়স ও বাসস্থানের প্রমাণপত্র-সহ এই আবেদন জমা দিতে হয়। অভিষেকের দাবি, নিয়ম মেনে স্থানীয় স্তরে জমা না দিয়ে সরাসরি সিইও দফতরে ফর্ম জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-কে কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘উনি পশ্চিমবঙ্গের ডেমোগ্রাফি বদলে যাচ্ছে। বদলাচ্ছে এই ভাবে।’’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘‘বস্তা করে ফর্ম-৬ নিয়ে কমিশনে জমা দিয়েছে। ফর্ম-৮ ফর্ম পূরণ না করে সরাসরি কমিশনের দফতরে দিয়ে যাওয়া হয়েছে। এখানে ফর্ম-৬ পূরণ করে উত্তরপ্রদেশ, বিহার থেকে ভোটার যোগ করা হচ্ছে। কিছু ভোটার বাদ দিয়ে, কিছু যোগ করে ভোট করাই বিজেপির পন্থা। এ ভাবেই মহারাষ্ট্র, দিল্লিতে জিতেছে এরা। এ বার বাংলাতেও সেই চেষ্টা হচ্ছে।’’ পাশাপাশি তাঁর বক্তব্য, ভোট ঘোষণার পর থেকে ৩৯৫ জন সরকারি আধিকারিককে বদলি করেও সুবিধা না হওয়ায় অন্য পথে চাপ তৈরি করা হচ্ছে।

অভিষেক জানান, এই ফর্ম-৬ সংক্রান্ত অভিযোগ তাঁরা সুপ্রিম কোর্টেও উত্থাপন করবেন। সিইও-কে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘‘উনি বলছেন, নিজের অফিসে কোথায় সিসিটিভি আছে, জানেন না। অথচ বাংলার ৮০ হাজার বুথে সিসিটিভি লাগাতে চান উনি!’’

যদিও নির্বাচন কমিশন অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। কমিশনের বক্তব্য, সম্প্রতি অফিস বদলের কারণে পুরনো দফতর থেকে ফাইলপত্র আনা হচ্ছিল, অভিষেক যেটিকে নতুন ফর্ম বলে দাবি করছেন, তা আসলে আগের নথিই।

এ দিন বিবেচনাধীন ভোটারদের বিষয়েও কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অভিষেক। বিশেষ নিবিড় সংশোধনের আগে রাজ্যে ভোটার সংখ্যা ছিল সাত কোটি ৬৬ লক্ষ। পরে খসড়া তালিকা থেকে ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়ে। ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় সাত কোটি আট লক্ষ ভোটারের নাম থাকলেও প্রায় ৬০ লক্ষ নাম বিবেচনাধীন অবস্থায় ছিল। সেই আবেদনের নিষ্পত্তিতে বিচারকরা কাজ করছেন। সোমবার পর্যন্ত চার দফা অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ হলেও কত জনের আবেদন মঞ্জুর হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। 


Share